ফুটেজে শনাক্ত, দোষ স্বীকার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৯:৫৩  

চোর সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।

তারা হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জালাল মিয়া (হল ছাত্রলীগের সাবেক উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক), মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সুমন,  একই শিক্ষাবর্ষের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের মুত্তাকীন সাকিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ এবং গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের হল শাখা ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন উপসম্পাদক আহসান উল্লাহ।

এদের মধ্যে ৪ জনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘যাদেরকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে তাদের ব্যাপার আমাদের ভিডিও ফুটেজ আছে। তারা যখন হল প্রাধ্যক্ষের রুমে নিজেদের জবানবন্দি দিতে আসে তখন তারা নিজেরাই নিশ্চিত করেছে যে ফুটেজের ছবিটি তাদের। তারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল- এ ধরনের ফুটেজও আমাদের কাছে আছে।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘এই ঘটনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। তাদের যে গ্রোমিংটা হয় এটি তো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় এসে আমরা তো তাদেরকে শিশুদের মতো তৈরি করতে পারি না। তারা তো অলরেডি তৈরি হয়েই আসে।

‘যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তাদের মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের একটি চর্চা আছে। তাদের মধ্যে একটা উন্মাদনা-উন্মত্ততা আছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও যে কিছু বিপথগামী রয়েছে সেটি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ হলো।’

সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের বার্তা খুবই স্পষ্ট। এ ধরনের ঘটনায় এত দ্রুত মামলা হয়েছে এমন নজির আমার মনে হয় না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল। আমাদের শিক্ষার্থী এবং পুলিশ প্রশাসনের অভূতপূর্ব সহযোগিতায় আমরা চারজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি। কোন দুষ্কৃতকারী ছাড়া পাবে না।’

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুক্রবার সকালে প্রতিবেদন জমা দেবে।